1. admin@sahas24bd.com : sahas24bd : Ahsan Ullah
নিন্মতম মজুরি বোর্ডের তথ্য: ৩১ সেক্টরের মধ্যে সবচেয়ে কম মজুরি চা শ্রমিকদের! - sahas24bd
রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
শিক্ষার্থী আদনান তাসিন হত্যাকাণ্ডের বিচারহিনতার ৩ বছর ভাইরাল হয়নি, তাই বিচার পাইনা [১] ‘নিজের বাবা দু’বছর ধরে শারীরিক নির্যাতন করেছে’ [১] স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, দূর্নীতির অভিযোগ [১] বাংলাদেশের সব নগরিক পাবে পেনশন সুবিধা, সংসদে বিল পাস [১] কোটালীপাড়ায় বইছে পৌরসভা নির্বাচনের হাওয়া [১] গোপালগঞ্জে বসেছে সরস্বতী প্রতিমার হাট [১] টুঙ্গিপাড়ায় স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ [১] টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে জার্মান আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা [১] সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মাকেও স্বীকৃতি দিলেন হাইকোর্ট [১] গোপালগঞ্জে নতুন বই কেজি দরে বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক [১] স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার দাবিতে গোপালগঞ্জে শিক্ষকদের মানববন্ধন

নিন্মতম মজুরি বোর্ডের তথ্য: ৩১ সেক্টরের মধ্যে সবচেয়ে কম মজুরি চা শ্রমিকদের!

এস এম চন্দন
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০২২
  • ৯৩ বার পঠিত

দৈনিক নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন চা শ্রমিকরা। বর্তমানে তাদের দৈনিক মজুরি দেয়া হয় মাত্র ১২০ টাকা। সেটিও ক্যাটেগরি-১ বাগানের শ্রমিকদের। ক্যাটেগরি-২ বাগানের শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১১৮ টাকা ও ক্যাটেগরি-৩ বাগানের শ্রমিকদের তা ১১৭ টাকা। তবে চা শ্রমিকরা দৈনিক ন্যূনতম মজুরি ৩০০ টাকা নির্ধারণের দাবি করেছেন। যদিও গত শনিবার তা ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে চা শ্রমিকরা তা মেনে না নিয়ে গতকালও আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বিশ্লেষণ করেছে শেয়ার বিজ। এতে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতের জন্য নির্ধারিত মজুরির মধ্যে সবচেয়ে কম চা শ্রমিকদের। তবে তাদের জন্য আবাসন, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সুবিধা মালিকপক্ষকে প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি সরকারিভাবে তাদের জন্য রেশনের ব্যবস্থা প্রদান করতে হবে।

সূত্রমতে, দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে সরকারের গঠিত নিন্মতম মজুরি বোর্ড। তাদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে ৩১টি সেক্টরের মধ্যে সবচেয়ে কম মজুরি চা শ্রমিকদের। এমনকি প্রস্তাবিত দৈনিক ১৪৫ টাকা মজুরি বিবেচনায়ও তা অন্যান্য সেক্টরের চেয়ে কম।

 

https://sharebiz.net/wp-content/uploads/2022/08/1-9-883×554.jpg

 

চা শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত মজুরি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিলেট-মৌলভীবাজার ও আশপাশের জেলাগুলোয় অবস্থিত চা-বাগানের মধ্যে যেগুলোয় বছরে এক লাখ ৮০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয় সেগুলো ক্যাটেগরি-১ এর অন্তর্ভুক্ত। আর চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও আশপাশের জেলাগুলোতে অবস্থিত চা-বাগানের মধ্যে যেগুলোয় বছরে এক লাখ ১৩ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয় সেগুলো ’এ’ ক্যাটেগরির অন্তর্ভুক্ত। শুধু এসব বাগানের শ্রমিকরাই দৈনিক ১২০ টাকা মজুরি পান।

আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা জানান, ১২০ টাকা মজুরি পাওয়ার জন্য তাদের দৈনিক কমপক্ষে ২৩ কেজি চা-পাতা উত্তোলন করতে হয়। যদি এর চেয়ে বেশি চা-পাতা উত্তোলন করেন তাহলে প্রতি কেজির জন্য অতিরিক্ত দুই টাকা করে পান শ্রমিকরা। তারা আরও জানান, মৌসুমে দক্ষ চা শ্রমিকদের কেউ কেউ দৈনিক ৩০-৪০ কেজি পর্যন্ত চা উত্তোলন করতে পারেন। কেউ কেউ আরও বেশি উত্তোলন করতে পারেন। তবে মৌসুম ছাড়া বাকি সময় বিশেষ করে (জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত) দৈনিক ২৩ কেজি চা উত্তোলন করাই কঠিন হয়ে যায়। তখন তারা আনুপাতিক হারে মজুরিও কম পান।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল এ প্রসঙ্গে বলেন, চা শ্রমিকদের দৈনিক ন্যূনতম মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার জন্য দুই বছর আগ থেকে দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু ১৯ মাস পেরিয়ে গেলেও মালিকপক্ষ মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে গড়িমসি করছে। এজন্য বাধ্য হয়ে প্রথমে কর্মবিরতি ও পরবর্তীতে ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।

এদিকে গত শনিবার দৈনিক মজুরি ১৪৫ টাকা করার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে টানা ১২ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন চা শ্রমিক নেতারা। এ সময় নৃপেন পাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবনাকে গ্রহণ করে উনার সম্মান রক্ষার্থে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। এই সিদ্ধান্ত প্রতিটি চা বাগানে নেতৃত্বের মাধ্যমে তৃণমূলের কাছে যাবে। শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন।’

১৪৫ টাকা হিসাবে মাসে মজুরি পড়বে চার হাজার ৩৫০ টাকা। যদিও এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ চা শ্রমিকরা। শনিবারই এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানের কথা জানান শ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় গতকালও তারা আন্দোলন চালিয়ে যান। এ সময় তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। চার ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধের পর দুই দিনের সময় দিয়ে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দেন। এ প্রসঙ্গে নৃপেন পাল বলেন, দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা মেনে নেয়ার জন্য সরকার ও মালিকদের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেয়া হলো। এর মধ্যে দাবি না মানা হলে ২৪ আগস্ট আবারও মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।

নিন্মতম মজুরি বোর্ডের তথ্যমতে, অন্যান্য খাতের মধ্যে ২০১৮ সালে নির্ধারণ করা হয় জাহাজ ভাঙা শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি। বর্তমানে তারা মাসে ১৬ হাজার টাকা মজুরি পান। গার্মেন্টস সেক্টরের মজুরিও ওই বছর নির্ধারণ করা হয়। তাদের ন্যূনতম মজুরি মাসিক আট হাজার টাকা। ২০১৮ সালে নির্ধারিত অন্যান্য সেক্টরের মধ্যে বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি শ্রমিকরা মাসে পাঁচ হাজার ৯৪০ টাকা, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ শ্রমিকরা পাঁচ হাজার ৯৩০ টাকা, অ্যালুমিনিয়াম শিল্পের শ্রমিকরা মাসে আট হাজার ৭০০ টাকা মজুরি পান।

২০১৮ সালে ট্যানারি শিল্পের মজুরিও নির্ধারণ করা হয়। এ শিল্পের বিভাগীয় শহরের শ্রমিকরা মাসে ন্যূনতম মজুরি পান ১৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য শহরের শ্রমিকরা পান ১২ হাজার ৮০০ টাকা। দর্জি কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে চার হাজার ৮৫০ টাকা ও বিভাগীয় শহর পর্যায়ে পাঁচ হাজার টাকা। আর কটন (টেক্সটাইল) শিল্পে উপজেলা পর্যায়ে শ্রমিকরা পাবেন পাঁচ হাজার ৭১০ টাকা, জেলা পর্যায়ে পাঁচ হাজার ৯৯০ টাকা ও বিভাগীয় শহরে সাত হাজার ১৭০ টাকা।

এদিকে ২০১৯ সালে গ্লাস ও সিলিকেট শিল্পে আট হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০২০ সালে প্লাস্টিক শিল্পের জন্য আট হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়। একই বছর রি রোলিং শিল্পে ন্যূনতম মজুরি করা হয় ম্যানুয়াল কারখানায় ১০ হাজার ৬৫০ টাকা, আধা স্বয়ংক্রিয় কারখানায় ১১ হাজার ১০০ টাকা ও পুরো স্বয়ংক্রিয় কারখানা ১১ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য ও জুতার কারখানার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ধরা হয় সাত হাজার ১০০ টাকা।

২০২০ সালে ব্যক্তিমালিকানাধীন সড়ক পরিবহন খাতেও মজুরি নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে বাস-ট্রাকের হেলপাররা বিভাগীয় শহরে মজুরি পাবে ন্যূনতম ১০ হাজার ৭৫০ টাকা ও অন্যান্য এলাকায় ১০ হাজার ১০০ টাকা। ওই বছর রাইস মিলের শ্রমিকদের জন্য বিভাগীয় শহরে মজুরি নির্ধারণ করা হয় ন্যূনতম আট হাজার ২৭৫ টাকা ও অন্যান্য এলাকায় সাত হাজার ৮১০ টাকা। আর ২০২১ সালে নির্মাণ ও কাঠ শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে সরকার। এক্ষেত্রে গ্রাম এলাকায় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১৬ হাজার ২৪০ টাকা ও শহরে ১৭ হাজার ৭২০ টাকা।

চলতি বছরও বেশকিছু শিল্পের মজুরি নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে সিকিউরিটি সার্ভিসের জন্য জেলা শহরে ৯ হাজার ১৪০ টাকা ও বিভাগীয় শহর ৯ হাজার ৮০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়। স’মিলের শ্রমিকদের মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৯ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ১৮ হাজার ৪৫০ টাকা ও অন্যান্য এলাকায় ১৭ হাজার ৯০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি ধরা হয়।

এদিকে চলতি বছর প্রিন্টিং প্রেসে নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি বিভাগীয় শহরে আট হাজার ৯০০ টাকা, জেলা পর্যায়ে আট হাজার ৪০০ টাকা ও উপজেলা পর্যায়ে আট হাজার ১৫০ টাকা। এছাড়া চিংড়ি শিল্পে ন্যূনতম মজুরি ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৭০০ টাকা। অপরদিকে হোমিওপ্যাথ, রাবার এবং মৎস্য শিকারি ট্রলার শ্রমিকদের মজুরিও পুনরায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। এ তিন খাতে ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব করা হয়েছে যথাক্রমে ১১ হাজার ৫০০ টাকা, ১২ হাজার ৯১০ টাকা ও ১০ হাজার ৫২০ টাকা। উপরোল্লিখিত খাতের বাইরে ২০১৭ সালে নির্ধারিত টি-প্যাকেটিং শিল্পে ন্যূনতম মজুরি সাত হাজার ৮০ টাকা, ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে আট হাজার ৫০ টাকা, সোপ অ্যান্ড কসমেটিকস খাতে পাঁচ হাজার ৬৪০ টাকা এবং হোসিয়ারি শিল্পে চার হাজার ৬৫০ টাকা। এছাড়া ২০১৪ সালে নির্ধারিত জুট প্রেসিং শিল্পে ন্যূনতম মজুরি চার হাজার ৮৫০ টাকা, ২০১৩ সালে নির্ধারিত ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রির জন্য চার হাজার ৫৬০ টাকা, ২০১২ সালে নির্ধারিত কোল্ড স্টোরেজের জন্য ছয় হাজার ৫০ টাকা এবং ২০১১ সালে সল্ট ক্রাশিং শিল্পের জন্য পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved sahas24bd© 2019-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: FT It Hosting